সম্প্রতি আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের ছবি ও নাম ব্যবহার করে “দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী হুমায়ুন কবীরের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়া বেআইনী। সরকারকে বলেছি, তারা আমার কথা শোনেনি।” শীর্ষক একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমন কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, একটি স্যাটায়ারধর্মী পেজ থেকে প্রকাশিত পোস্টের বক্তব্যকে পরবর্তীতে কোনো ধরনের ব্যঙ্গাত্মক বা কাল্পনিক কনটেক্সট ছাড়াই বাস্তব বক্তব্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত পোস্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে বক্তব্যটির কোনো তারিখ, স্থান, অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার কিংবা সংবাদসূত্র উল্লেখ নেই। ফলে এটিকে আইনমন্ত্রীর প্রকৃত বক্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার মতো প্রাথমিক কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রও পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সাম্প্রতিক প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিটির সরাসরি অসঙ্গতি রয়েছে। ২৫ আগস্ট ২০২৬ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেই প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এবং সংবিধান মেনেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এ নিয়োগে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে আইনমন্ত্রীকে যেখানে হুমায়ুন কবীরের নিয়োগকে বেআইনি বলে দাবি করতে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে একই বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পরবর্তীতে আলোচিত বক্তব্যটির উৎস অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এটি স্যাটায়ারধর্মী পেজের পোস্ট থেকে ছড়িয়েছে। ফলে ওই পেজে প্রকাশিত ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্যকে আইনমন্ত্রীর বাস্তব মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।

