সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে উপস্থাপিত তথ্যের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার–আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জ–নরসিংদীর তিন প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক-কর্মচারী সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৯৫টি কারখানা বন্ধ এবং ৬১ হাজার ৮৮১ জনের কর্মসংস্থান হারানোর এই পরিসংখ্যানটি ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের নয়। প্রকৃতপক্ষে, একই পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান হারানোর তথ্য হিসেবে ২০২৫ সালের সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল।
জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ২০২৫ সালের ৫ মার্চের এক প্রতিবেদনে শিল্প পুলিশের তথ্যের বরাতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার–আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরে ৫৪টি, নারায়ণগঞ্জ–নরসিংদীতে ২৩টি এবং সাভার–আশুলিয়ায় ১৮টি কারখানা ছিল। এসব কারখানায় কর্মরত ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মসংস্থান হারান।
অর্থাৎ, ৬১ হাজার ৮৮১ জনের কর্মসংস্থান হারানোসহ ৯৫টি কারখানা বন্ধের যে পরিসংখ্যানকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি–আগস্টের চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি অন্তত এক বছর আগেই প্রকাশিত হওয়া ২০২৪ সালের আগস্ট–২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি সময়ের তথ্য।
আরও অনুসন্ধানে জানা যায়, সিপিডির উপস্থাপিত তথ্যটির উৎস হিসেবে ঢাকা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন ব্যবহার করা হয়েছিল। ২২ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে একই ৯৫টি কারখানা বন্ধ এবং ৬১ হাজার ৮৮১ জনের কর্মসংস্থান কমার তথ্যকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্টের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফলে সিপিডির উপস্থাপনায় ব্যবহৃত তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তথ্যটির সময়কাল নিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
এ বিষয়ে দ্য ডিসেন্টকে সিপিডির এডিশনাল রিসার্চ ডিরেক্টর তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, তারা তথ্যটি ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের সূত্রে নিয়েছেন। ফলে বিভ্রান্তির মূল কারণ হিসেবে পুরোনো পরিসংখ্যানকে নতুন সময়কালের তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
সুতরাং, ‘২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন চাকরি হারিয়েছেন’—সিপিডির উপস্থাপনায় প্রচারিত এই দাবিটি সঠিক নয়; ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পুরোনো পরিসংখ্যানকে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

