সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম Kolkata24x7-সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন হিন্দু ছাত্রীর গোপন ভিডিও ধারণের সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গোপনে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক বহিরাগত যুবক আটক হওয়ার ঘটনাটি সত্য। তবে ‘এক হিন্দু ছাত্রীর গোপন ভিডিও ধারণ’—এমন দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যাচাইয়ে জানা যায়, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে একাধিক নারী শিক্ষার্থীর গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা মূলধারার কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ হিন্দু ছিলেন—এমন দাবি করারও কোনো ভিত্তি নেই।
বরং, একজনের ঘটনা হিসেবে এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় যুক্ত করে বিষয়টি উপস্থাপন করার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় পরিচয় সংযুক্ত করে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সুতরাং, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এক হিন্দু ছাত্রীর গোপন ভিডিও ধারণ’ দাবিটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, একাধিক নারী শিক্ষার্থীর গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে একজন বহিরাগত আটক হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য না থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় একটি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো সাম্প্রদায়িক রং মিশিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়েছে।

