সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দাবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে, ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ও প্রশাসন (এডমিন) ক্যাডারে হিন্দু বা অন্য কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ সুপারিশপ্রাপ্ত হননি। একই সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্যাডারে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। প্রকৃতপক্ষে, ৪৭তম বিসিএসের পুলিশ ও প্রশাসন—উভয় ক্যাডারেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দাবিকে সরাসরি ভুল প্রমাণ করে।
যাচাইয়ে দেখা যায়, Gopal Debnath, Chandrima Dutta, Snigdha Banerjee এবং Monisha Kumkum Sarkar (রূপকথা) নিজ নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (ASP) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি Horichad TV-এর প্রকাশিত পোস্টগুলোতেও এসব সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর তথ্য পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, প্রশাসন (এডমিন) ক্যাডারেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক ব্যক্তি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। অনুসন্ধানে Chinmoyee Sarkar, Aovijit Halder এবং Hijol Chakma-এর প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্য সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কমিউনিটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, বিভিন্ন স্বাধীন উৎসে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, ৪৭তম বিসিএসের পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থী নেই—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মূলত, যাচাইযোগ্য তথ্য উপেক্ষা করে একটি বিভ্রান্তিকর বর্ণনা তৈরি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার কেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না, বরং সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেওয়ারও ঝুঁকি তৈরি করে।
সুতরাং, ‘৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডারে সংখ্যালঘু বা হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ সুপারিশপ্রাপ্ত হননি’—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং তথ্যভিত্তিক নয়।

