
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় পুলিশ সদস্যরা অপরাধীর মতো ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ছবিটি ঘিরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক অপমানের অভিযোগও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার চিত্র নয়। বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে থাকা ব্যক্তিদের মুখাবয়ব, হাতের গঠন, দেহের অনুপাত এবং পারিপার্শ্বিক কিছু উপাদানে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে, যা সাধারণত এআই-নির্মিত ছবিতে দেখা যায়। ছবিটির ভিজ্যুয়াল বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলেও এটি স্বাভাবিক আলোকসজ্জা, অনুপাত ও বাস্তব চিত্রের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিষয়টি আরও যাচাই করতে এআই শনাক্তকারী একাধিক টুল ব্যবহার করা হলে একই ফলাফল পাওয়া যায়। গুগলের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট জেমিনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছবিটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদিত হওয়ার শক্তিশালী ইঙ্গিত রয়েছে। পাশাপাশি, Hive Detect-এর বিশ্লেষণেও ছবিটি এআই-জেনারেটেড হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া, ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতীয় পুলিশ সদস্যরা হেফাজতে নিয়ে গেছেন বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম, সরকারি সূত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।
অতএব, একটি এআই-নির্মিত ছবি ব্যবহার করে ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় পুলিশ অপমানজনকভাবে নিয়ে যাচ্ছে, এমন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সুতরাং, দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে ডা. জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে যাওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয়; এটি এআই-নির্মিত এবং দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

