সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্লা হিন্দু পাড়ায় হামলা চালিয়ে মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। পোস্টে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো পদক্ষেপ নেই এবং এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হামলার ঘটনাটি সত্য। ২২ মে ২০২৬ রাত ১১টার দিকে সুশীল চন্দ্র প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা হয় এবং মন্দিরের একটি প্রতিমা ভাঙচুর হয়।
তবে ভাইরাল পোস্টে ঘটনার কারণ সম্পূর্ণভাবে আড়াল করা হয়েছে।
হামলার একদিন আগে ২১ মে সুশীল চন্দ্র প্রামাণিক ও স্থানীয় আব্দুল মান্নানের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সেদিনই স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়। পরদিন রাতে আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি দল ওই হামলা চালায়।
ভাইরাল পোস্টে এই প্রেক্ষাপটের একটি শব্দও নেই।
ঘটনার পরদিন ২৩ মে সকালেই সার্কেল এএসপি ও থানার ওসির উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের লিখিত মিমাংসা সম্পন্ন হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল এবং এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনা সত্য, কিন্তু দাবি বিভ্রান্তিকর। হামলার কারণ লুকিয়ে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ বাদ দিয়ে কেবল “হিন্দু পাড়ায় হামলা” হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে — যা সাম্প্রদায়িক উসকানির উদ্দেশ্যে তথ্য বিকৃতির স্পষ্ট উদাহরণ।

