সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে যে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবিটিতে আরও বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালের জুনে লন্ডনে ড. ইউনূস ও তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতার পাশাপাশি ড. ইউনূসকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার ‘মৌখিক চুক্তি’ হয়েছিল।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, লন্ডনে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য সত্য হলেও, ওই বৈঠকে ড. ইউনূসকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হয়েছিল—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বৈঠকের আলোচনার বিষয় হিসেবে নির্বাচন, রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমার কথা উল্লেখ রয়েছে; কিন্তু ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তির তথ্য নেই।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে কিছু সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলেও, এটি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন—ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়। একইভাবে, স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. ইউনূসের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
অর্থাৎ, ২০২৫ সালের লন্ডন বৈঠকের প্রকৃত আলোচনাকে ভিত্তি করে পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে একটি অপ্রমাণিত ‘গোপন চুক্তি’র গল্প যুক্ত করা হয়েছে। কোনো নির্ভরযোগ্য নথি, সরকারি ঘোষণা বা বৈঠক-সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি করার এমন চুক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এবং লন্ডন বৈঠকের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি’—শীর্ষক দাবিটি কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই প্রচার করা হয়েছে; যা অপ্রমাণিত ও বিভ্রান্তিকর।

