সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথের ওপর জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন এবং তাকে প্রায় মেরে ফেলা হয়েছিল। দাবিটির সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকরভাবে তথ্যটি প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর কুড়িগ্রামে নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটলেও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের ওপর কোনো হামলা বা শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর-এর ৪ জানুয়ারির প্রতিবেদনে জানা যায়, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হলে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা হট্টগোল করেন। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, নির্বাচনি আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করেই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপিলের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া প্রথম আলো-র প্রতিবেদনে জানা যায়, দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত অভিযোগের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হলেও প্রার্থী মাহাবুবুল আলম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন বাতিলসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ দিতে পারেননি। এ কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জামায়াতের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক জড়ো হন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। তবে এসব প্রতিবেদনের কোথাও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের ওপর হামলা, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কিংবা তাকে হত্যার চেষ্টা করার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও উত্তেজনার বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের ওপর হামলার একটি কাল্পনিক তথ্য যুক্ত করে দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

