রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর দেয়ালে শিল্প-সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সেগুনবাগিচার ওই দেয়ালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রাফিতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিটি বাস্তব কোনো গ্রাফিতির ছবি নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। আলোচিত ছবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রাফিতি থাকার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ওপেনএআইয়ের দেওয়া যাচাই-সুবিধা ব্যবহার করে দেখা যায়, এতে এআই দিয়ে তৈরি ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিন্থআইডি ওয়াটারমার্কের অস্তিত্ব রয়েছে। পাশাপাশি হাইভ ডিটেক্টের বিশ্লেষণেও ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে উঠে এসেছে। ছবিটি পর্যবেক্ষণ করেও কয়েকটি অসংগতি লক্ষ করা যায়, যা এর কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার বিষয়টিকে সমর্থন করে।
অন্যদিকে, ছবিটির পটভূমির সঙ্গে সেগুনবাগিচার বাস্তব দেয়ালের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। গত ৫ অক্টোবর ‘সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে নতুন রূপ দিলো ডিএসসিসি’ শিরোনামে ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওই দেয়ালের ছবি রয়েছে। প্রতিবেদনটির ছবির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির পটভূমির আংশিক মিল থাকলেও সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রাফিতি থাকার দাবির কোনো সমর্থন পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, সেগুনবাগিচার বাস্তব দেয়ালের দৃশ্যকে ভিত্তি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রাফিতি যুক্ত একটি কৃত্রিম ছবি তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং, সেগুনবাগিচার দেয়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্মিত ছবি প্রচার করা হয়েছে।

