
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ছাগল চুরি করতে আসা এক বিএসএফ সদস্যকে স্থানীয়রা আটক করে এবং পরে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ নেই। প্রকৃতপক্ষে, আলোচিত ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার আলোকচিত্র নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত একটি ছবি।
অনুসন্ধানে দাবির সূত্র খুঁজতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, অনলাইন সংবাদপোর্টাল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পর্যালোচনা করা হয়। কিন্তু কুড়িগ্রাম সীমান্তে কোনো বিএসএফ সদস্য ছাগল চুরি করতে এসে আটক হওয়া বা তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার মতো ঘটনার কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটলে তা সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় উভয় দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে অনুসন্ধানে একটি গণমাধ্যমের ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত একটি পুরোনো ছবি পাওয়া যায়, যার সঙ্গে ভাইরাল ছবির ব্যক্তির চেহারা, চুলের ধরন এবং পটভূমির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মূল ছবিটিকে পরিবর্তন ও সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া মূল ছবিতে থাকা ব্যক্তি কোনো বিএসএফ সদস্য নন; তিনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক। ফলে ভাইরাল দাবির সঙ্গে ছবিটির কোনো বাস্তব সম্পর্ক পাওয়া যায় না।
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করলেও মুখাবয়ব, চুলের বিন্যাস, আলো-ছায়ার অসামঞ্জস্য এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়, যা এআই-নির্ভর ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়।
সুতরাং, কুড়িগ্রাম সীমান্তে ছাগল চুরি করতে এসে বিএসএফ সদস্য আটক হওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। একইসঙ্গে, ওই দাবিতে প্রচারিত ছবিটিও এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বা সম্পাদিত একটি বিভ্রান্তিকর ছবি।

