সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে সরকার”—এমন শিরোনামে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান–এর ম্যুরাল ভাঙার একটি ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। ভিডিওটি প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করছে।
তবে আলোচিত ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। জানা গেছে, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরালটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়। মহাসড়কের নকশা অনুযায়ী ম্যুরালটি রাস্তার মাঝখানে পড়ে যাওয়ায় যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ম্যুরালটি অপসারণের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পরিবারের অনুমতিক্রমেই। এটি কোনোভাবেই ধ্বংস নয়, বরং পরিকল্পিত পুনর্নির্মাণের অংশ।
বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগের চেয়ে আরও বড় ও দৃশ্যমান পরিসরে ম্যুরালটি পুনর্নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। আগে যেখানে ম্যুরালটির আয়তন ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট, সেখানে নতুন করে সেটি নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট আয়তনে—যাতে দূর থেকেও ম্যুরালটি স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি আরও মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়।
এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো–তেও “বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল আরও বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু” শিরোনামে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে পুরো প্রেক্ষাপট পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অতএব, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংসের উদ্দেশ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল ভেঙেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিকর গুজব ছাড়া কিছুই নয়।
তথ্যসূত্র:’
[https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/7f553j02pi](https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/7f553j02pi “”)

