ভারতের ANI–কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সন্ত্রাসবাদ, জাতীয় নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। ফ্যাক্ট রিভিউর যাচাইয়ে দেখা গেছে—তার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি অসত্য, প্রমাণহীন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত।
Claim 1: “LeT বাংলাদেশে সক্রিয় এবং তা ড. ইউনূস পরিচালনা করছে।”
ফলাফল: মিথ্যা
LeT পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন এবং বিদেশে কোনো শাখা পরিচালনার বিষয়টি তারা নিজেরাই অস্বীকার করে। বাংলাদেশে LeT–এর উপস্থিতি সম্পর্কিত কোনো গোয়েন্দা সংস্থা—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান বা আন্তর্জাতিক—কোনো সময় কোনো প্রমাণ পায়নি। কোনো গ্রেপ্তার, সেল, অর্থায়ন বা লজিস্টিক চিহ্ন নেই।
Claim 2: “দিল্লির হামলা করেছে বাংলাদেশভিত্তিক LeT শাখা।”
ফলাফল: মিথ্যা
ভারতের NIA, RAW বা দিল্লি পুলিশ—কেউই বাংলাদেশকে দায়ী করেনি। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকারও করেনি। “Bangladesh-based LeT branch” নামে কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।
Claim 3: “অন্তর্বর্তী সরকার লাখো সন্ত্রাসীকে মুক্তি দিয়েছে।”
ফলাফল: মিথ্যা
বাংলাদেশের আইনে নির্বাহী সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী মুক্ত করতে পারে না। জুলাই বিপ্লবের পরে মুক্তি পাওয়া সবাই আদালতের আদেশে মুক্ত হয়েছেন। জাতিসংঘের তদন্ত নিশ্চিত করেছে—হাসিনা সরকারের সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে মিথ্যা সন্ত্রাসী মামলা, জবরদস্তি স্বীকারোক্তি ও রিমান্ড নির্যাতনে ফাঁসানো হয়েছিল।
Claim 4: “মোদী উদ্বিগ্ন, বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস রপ্তানি হতে পারে।”
ফলাফল: বিভ্রান্তিকর
২০২৪ সালের বিপ্লব ছিল সম্পূর্ণ ছাত্র–জনতার আন্দোলন। কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগ পতনে ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যাওয়ায় এই বয়ানটি মূলত ভয়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
Claim 5: “ISI সমর্থিত মিলিট্যান্টরা অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনে ঢুকেছিল।”
ফলাফল: মিথ্যা ও পরস্পরবিরোধী
জয়ের বক্তব্যে LeT ও ISI উভয়কে দায়ী করা হয়েছে—যা বাস্তবিকভাবে পরস্পরবিরোধী। দেশীয় গোয়েন্দা তথ্য বলছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও RAW–ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক আন্দোলনকে সহিংস দেখাতে অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করেছিল। পাকিস্তান বা ISI–এর সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই।
Claim 6: “বাংলাদেশে আইনের শাসন নেই ও অস্থিতিশীল।”
ফলাফল: ভুল ও আত্মবিরোধী
গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক দমন—এসব ছিল শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে, মিথ্যা মামলার বন্দীরা মুক্তি পাচ্ছেন, এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে দেশ।
বৃহত্তর বিশ্লেষণ: জয় কেন এমন বিভ্রান্তিকর বয়ান দিচ্ছেন?
১. নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনরুদ্ধার করতে।
২. জুলাই বিপ্লবকে ‘মিলিট্যান্ট আন্দোলন’ হিসেবে উপস্থাপন করতে।
৩. শেখ হাসিনার আশ্রয় রক্ষা ও প্রত্যর্পণ ঠেকাতে বাংলাদেশকে “অস্থিতিশীল” দেখাতে।

