মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, এবারের ঈদে বাস ও মিনিবাসে যাত্রীদের গড়ে ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং এই অতিরিক্ত ভাড়ার মোট পরিমাণ ১৪৮ কোটি টাকা হয়েছে। সংবাদে আরও দাবি করা হয় যে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এবং কিছু বড় কোম্পানি যাত্রীদের কৌশলে দূরপাল্লার টিকিট না দিয়ে অন্য রুটে টিকিট কাটতে বাধ্য করছে।
যাচাই-বাছাই করলে দেখা গেছে, এই সব তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই খবরের কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই।
এই অপতথ্য ছড়ানোর মূল ব্যক্তি হলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি হেয় করার এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচার করছেন। এর মধ্যে এআই-নির্মিত দুর্ঘটনার ছবি ব্যবহার করেও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চাদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
বাস্তবে, বাস-মিনিবাস চলাচল এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, বিআরটিএ এবং ভোক্তা অধিকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রতিটি টার্মিনালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে মালিক-শ্রমিক যৌথভাবে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি একজন বাস কাউন্টার ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে দণ্ডিত করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, সরকারের ব্যবস্থা, মনিটরিং এবং তদারকি নিশ্চিত করেছে যে কোনো বাস-ট্রিপে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে না। ফলে যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে ছড়ানো এই ধরনের খবর শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্য বহন করছে।
অন্যদিকে, এই সংগঠনটি কার্যকরভাবে সক্রিয় নয় এবং এর কোনো সত্যিকারের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। সুতরাং, “ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়” শিরোনামের সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং অপপ্রচারমূলক।

