সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মানিলন্ডারিং বোমা ফাটল: ৪ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন আসিফ মাহমুদ!’— এমন শিরোনামে ‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের লোগো ব্যবহার করে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ গত ১৬ মাসে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে উপার্জিত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন।
তবে আলোচিত দাবিটি যাচাই করতে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম কিংবা কোনো সরকারি বা বিশ্বস্ত সূত্রে এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন, তদন্ত বা নথি পাওয়া যায়নি। এত বড় আর্থিক অনিয়মের ঘটনা সত্য হলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতো, কিন্তু এমন কোনো তথ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ‘আজকের কণ্ঠ’ নামে প্রচারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি একটি ভুয়া ও অবিশ্বস্ত মাধ্যম, যেখান থেকে নিয়মিতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাদের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হয়। এই প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশে নিবন্ধিত বা স্বীকৃত কোনো প্রথম সারির গণমাধ্যম নয় এবং এর প্রকাশিত তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
সুতরাং, ‘আসিফ মাহমুদ ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন’— এমন দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

